নায়ক থেকে খলনায়ক বরিস জনসন

দল তার জায়গায় নতুন কাউকে নির্বাচন করার আগ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বরিস। সত্তরের দশকের জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ‘কুইন’- এর গানের ভাষায়, ‘অ্যানাদার ওয়ান বাইটস দ্য ডাস্ট’, অর্থাৎ আরও এক রাজনৈতিক মহারথী ধুলোয় গড়াগড়ি খেলেন। বস্তুত, অনেক জল ঘোলা করে অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন বরিস জনসন।

একইসঙ্গে, টোরি দল হিসেবে পরিচিত কনজারভেটিভ (রক্ষণশীল) দলের নেতার পদ থেকেও তাকে ইস্তফা দিতে হল। মোটামুটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নায়ক থেকে খলনায়ক, সব ভূমিকাতেই আমরা বরিসকে দেখতে পেলাম।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বরিস জনসনকে ব্যর্থ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেই চিত্রিত করা হয়েছে। একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত ও কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হওয়ায় তিনি ছিলেন বিব্রত ও বিপর্যস্ত।

এক সময় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ক্যারিয়ারে রয়েছে প্রচুর উত্থান-পতন।

ক্রিস পিনচারের বিতর্কিত নিয়োগ

পিনচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় লন্ডনের কার্লটন ক্লাবে তিনি ২ জন পুরুষের সঙ্গে যৌন অসদাচরণ করেন। এ বিষয়টি সম্পর্কে বরিস জনসনকে ২০১৯ সালে জানানো হয়েছিল।

টোরি দলের আইনপ্রণেতা ক্রিস পিনচারকে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ এক পদে নিয়োগ দেন বরিস। ‘প্যাসটোরাল সেবা’র (নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়) দায়িত্ব পান এই বিতর্কিত আইনপ্রণেতা। তবে তিনি যে বিতর্কিত, সে বিষয়ে অজ্ঞানতার কথা জানান বরিস ও ডাউনিং স্ট্রিট। পরে অবশ্য তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হন।

তবে বিবিসির তথ্য মতে, এ তথ্য জানা সত্ত্বেও ২০২০ সাল থেকে আবাসনমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা ক্রিস পিনচারকে এ বছর ডেপুটি হুইপের দায়িত্ব দেন বরিস।

এ প্রসঙ্গে টোরি দলের এমপি ও বরিস জনসনের সমালোচক মার্ক হার্পার বলেন, ‘হুইপরা দলের অন্যান্য এমপিদের প্যাসটোরাল (নৈতিককতা সম্পর্কিত বিষয়) সেবার দায়িত্বে থাকেন। মি. পিনচারকে এ দায়িত্ব দেওয়ায় আমার পার্লামেন্টারি সহকর্মীদের সার্বিক মঙ্গল ও নিরাপত্তার প্রতি চরম উদাসীনতা দেখানো হয়েছে।’

৩০ জুন পদত্যাগ করেন ডেপুটি হুইপ পিনচার। তার একদিন পর, ১ জুলাই দলের এমপির পদ থেকে বরখাস্ত করা হয় ট্যামওয়ার্থ থেকে নির্বাচিত এই আইনপ্রণেতাকে।