পরপারে স্কটল্যান্ডের হয়ে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা একমাত্র তারকা

অ্যান্ডি গোরামের মাহাত্ম্য অবশ্য অতটুকুতেই শেষ হচ্ছে না। অবশ্য গোরামের ক্যারিয়ার নিয়ে ধারণা থাকলে ফার্গুসনের প্রিয়পাত্র হওয়ার ব্যাপারটাকে তাঁর ক্যারিয়ারের তেমন কোনো অর্জন বলেই মনে হবে না।

ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁর অবদান ও কীর্তি যে আরও বড়! স্কটল্যান্ডের ইতিহাসে গোরামই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি শীর্ষ পর্যায়ে ক্রিকেট ও ফুটবল—দুটিই খেলেছেন। রেঞ্জার্সের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ গোলকিপার মানা হয় তাঁকে। জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে ৪৩ ম্যাচ খেলা এই খেলোয়াড় ক্রিকেটে দুটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচও খেলেছেন স্কটল্যান্ডের হয়ে।
ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে গতকাল মৃত্যুবরণ করেছেন এই কুশলী ক্রীড়াবিদ। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।

রেঞ্জার্সের হয়ে পাঁচবার স্কটিশ লিগ, তিনবার স্কটিশ কাপ ও দুবার লিগ কাপ জিতেছেন গোরাম। ২০০০-০১ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ধারে দুটি ম্যাচ খেলেছেন এই গোলকিপার। সেবার মূল দুই গোলকিপার বার্থেজ আর ফন ডার গোউ চোটে পড়েছিলেন বলেই গোরামের দিকে হাত বাড়িয়েছিলেন ফার্গুসন। সেবার লিগ জেতে ইউনাইটেড।

গত এপ্রিলেই জেনেছিলেন, ক্যানসারে ভুগছেন। খুব বেশি দিন বাঁচতে পারবেন না। ডাক্তাররা ছয় মাস সময় দিয়েছিলেন, সেই ছয় মাসও বাঁচা হলো না গোরামের। পরে জানিয়েছিলেন, ইচ্ছা করেই কেমোথেরাপি নেননি, কারণ কেমোথেরাপি নিলে সর্বোচ্চ আর তিন মাস বাঁচতে পারতেন।

স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন যখন স্কটল্যান্ডের অন্তর্বর্তীকালীন ম্যানেজার ছিলেন, তখন ১৯৮৫ সালে গোরামের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল। জাতীয় দলের হয়ে ১৯৮৬ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপ, ১৯৯২ ও ১৯৯৬ ইউরো খেলেছেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে সুযোগ পেলেও কোচ ক্রেইগ ব্রাউনের সঙ্গে মনোমালিন্য থাকার কারণে স্কোয়াডের অংশ হওয়ায় অস্বীকৃতি জানান।ক্রিকেটে ছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, মিডিয়াম পেস বলও করতেন।

পরে রেঞ্জার্সের তৎকালীন ম্যানেজার ওয়াল্টার স্মিথের নির্দেশে ক্রিকেট বাদ দিয়ে পুরোপুরি ফুটবলে মনোনিবেশ করেন এই গোলকিপার। গোরামের মৃত্যুতে টুইটারে শোক প্রকাশ করেছেন গ্যারি নেভিল থেকে শুরু করে স্টিভ আর্চিবল্ড, ডেভিড সিম্যান, ক্রিস সাটন, নেভিল সাউথহল থেকে শুরু করে আরও অনেক বর্তমান ও সাবেক ফুটবল তারকা।