যুক্তরাজ্যে সপ্তাহে ৪ দিন কাজ, ছুটি ৩ দিন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও বোস্টন কলেজের গবেষকদের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এই প্রকল্প অলাভজনক কমিউনিটি ফোর ডে উইক গ্লোবাল ও ফোর ডে উইক ইউকে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে।

লন্ডনের প্রেশার ড্রপ ব্রিউইংয়ের ব্র্যান্ড ম্যানেজার সিয়েনা ও’রর্ক বলেন, তাঁদের কোম্পানির প্রধান লক্ষ্য ছিল কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং শারীরিক সুস্থতার উন্নতি সাধন করা। তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারি আমাদের কাজ, কর্মক্ষেত্র ও কর্মীদের নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। আমরা কর্মীদের জীবনমান উন্নত করতে এবং বিশ্বের একটি প্রগতিশীল পরিবর্তনের অংশ হতে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পে অংশ নিয়েছি।’

প্রেশার ড্রপ ব্রিউইং মূলত পণ্য উৎপাদন ও শিপিংয়ের কাজ করে। তাই কর্মীরা কখন ও কোথায় কাজ করবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। এ নিয়ে সিয়েনা ও’রর্ক বলেন, সাধারণ ছুটি এবং অসুস্থতাজনিত ছুটির দিনগুলোতে কর্মীরা একটি দল হিসেবে কর্ম পরিচালনা করবেন।

প্রতিবেদন আরও বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে সপ্তাহে কর্মদিন কমিয়ে আনার সবচেয়ে বড় দুটি পাইলট প্রকল্প চালু করেছে আইসল্যান্ড। ২০১৫ ও ২০১৯ সালে পরিচালনা করা ওই প্রকল্প দুটিতে ২ হাজার ৫০০ সরকারি কর্মীও অংশ নেন। এই প্রকল্পে অংশ নেওয়া কর্মীদের মধ্যে কর্মোৎপাদনশীলতায় তেমন কমতি দেখা যায়নি। তবে কর্মীদের সুস্থ থাকার হার ও উন্নত জীবনমান নাটকীয়ভাবে বেড়ে গিয়েছিল।

গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের নানা দেশে কর্মক্ষেত্রে সপ্তাহে কার্যদিবস কমানো নিয়ে আলোচনা চলছে। করোনা মহামারি চলাকালীন লাখো কর্মী ঘরে বসে কাজ করায় কার্যদিবস কমানোর বিষয়টি আরও জোরদার হয়ে উঠেছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়।

ফোর ডে উইক ক্যাম্পেইন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি চলতি বছরের শেষের দিকে সরকারিভাবে স্পেন ও স্কটল্যান্ডেও একই ধরনের প্রকল্প শুরু হতে যাচ্ছে।

ফোর ডে উইক গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জো ও’কনর এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘কর্মীরা দেখিয়েছেন, তাঁরা অল্প সময়েও চমৎকার কাজ করতে পারেন। করোনা মহামারির প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার পর অসংখ্য প্রতিষ্ঠান বলছে, তাদের নতুন লক্ষ্য কর্মীদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা। কর্মদিবস কমিয়ে আনায় কর্মীরা আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবেন।