অফিসে ‘গুরু’ লাদেনের ছবি, বরখাস্ত সরকারি কর্মকর্তা

আল কায়দার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন। পুরো বিশ্ব যাকে চেনে কুখ্যাত সন্ত্রাসী হিসেবে। অথচ তাকেই নিজের গুরু মানেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের সরকারি কর্মকর্তা রবীন্দ্র প্রকাশ গৌতম।

শুধু তাই নয়, ‘গুরু’ লাদেনের একটি ছবিও টাঙান নিজের অফিসে। ছবির নিচে একটি ক্যাপশনও দেন। তাতে লেখা, ‘ওসামা বিন লাদেন-বিশ্বের সেরা ইঞ্জিনিয়ার।’

ওই ঘটনা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায়। তড়িঘড়ি করে সরকারি দফতর থেকে ‘গুরু’র ছবি সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। চাকরি হারাতে হয়েছে তাকে। রবীন্দ্র প্রকাশ গৌতম নামে বিদ্যুৎ বিভাগের ওই কর্মকর্তাকে বুধবার (১ জুন) বরখাস্ত করা হয়েছে।

এরপরও নিজের কাজের জন্য মোটেও অনুতপ্ত নন রবীন্দ্র প্রকাশ গৌতম। বলেছেন, ‘লাদেনকে আমি গুরু মানি। আর তাই আমার দফতরে গুরুর ছবি লাগিয়েছি।’

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌ থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে ফারুখাবাদ জেলার নবাবগঞ্জ শহরের বিদ্যু‍ৎ বিভাগের সাব-ডিভিশনাল কর্মকর্তা (এসডিও) হিসেবে সম্প্রতি দায়িত্ব নেন রবীন্দ্র প্রকাশ গৌতম।

মঙ্গলবার (৩১ মে) তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষা‍ৎকারের জন্য যান দফতরের অন্যান্য কর্মীরা। আর বসার ঘরে ঢুকতেই তাদের চোখে পড়ে দেয়ালে টাঙানো লাদেনের ছবি।

কেউ একজন কৌতুহল বশে গৌতমের কাছে জানতে চান, স্যার, লাদেনের ছবি আপনার অফিসের দেওয়ালে কেন?
জবাবে গৌতম বলেন, লাদেনকে আমি গুরু হিসেবে মানি। তিনি হলেন বিশ্বের সেরা জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার। আমার কাছে তার আরও ছবি রয়েছে।

জবাব শুনে কর্মচারীরা আর কথা বাড়াননি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সরকারি দফতরে লাদেনের ছবি লাগানোর বিষয়টি জানাজানি হয়।

সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যু‍ৎ দফতরের সিনিয়র কর্মকর্তাদের নির্দেশে দেয়াল থেকে ছবি সরিয়ে নেয়া হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।

এরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গৌতমকে বরখাস্ত করা হয়। ফারুখাবাদ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় কুমার সিং বলেন, তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় রবীন্দ্র প্রকাশ গৌতমকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তবে গৌতম আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, যেকেউ যেকারো আদর্শ হতে পারে। ওসামা ছিলেন বিশ্বের একজন শ্রেষ্ঠ প্রকৌশলী। একটা ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে আমার কাছে আরও কয়েকটি ছবি রয়েছে।